খাঁটি সোনা চেনার ঘরোয়া এবং প্রাচীন কিছু উপায়, গহনা কিনার আগে ছোট বড় সকলের জনা প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদন: পৃথিবীতে স্বর্ণ এমন একটি পদার্থ যা কিনা প্রত্যেকের নিজের কাছে আগলে রাখতে চাই। স্বর্ণ একটি দামি পদার্থ। এই স্বর্ণ বিভিন্ন রকম গয়না তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে মহিলারা স্বর্ণের গয়না আগলে রাখতে পছন্দ করে। আর এই স্বর্ণ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় এই মহিলাদের গয়না তৈরিতে। যদিও গয়না ব্যবহার করার জিনিস কিন্তু তা ব্যবহারের চেয়ে বেশি লুকিয়ে রাখা হয় কেননা হারিয়ে যাওয়া কিংবা চুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। স্বর্ণের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করা একটু কঠিন কাজ। কেননা আমরা সচরাচর প্রত্যেকের সোনা কেনা বেচা করিনা।

কেননা স্বর্ণ কেনার সাধ্য পৃথিবীতে প্রত্যেকের হয়ে ওঠে না। আর যাদের সাধ্য রয়েছে তারাও জীবনে খুব কম সোনা কেন হয়। যার কারণে এর অভিজ্ঞতা আমাদের মধ্যে খুব কম মানুষেরই থাকে।অনেকে অনেক সময় স্বর্ণকার দের কাছ থেকে ভুল করে নকল সোনা কেনে ফেলি। এই স্বর্ণ অত্যন্ত দামি হওয়ায় অনেক চোরা কারবারিরা বিভিন্ন রকম নকল সোনা তৈরি করে বিক্রি করার চেষ্টা করে। তাই স্বর্ণ কেনাবেচার সময় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করে নেয়া হয়। আর যখন স্বর্ণ বেচাকেনা হয় তখন আমরা এই স্বর্ণের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করার জন্য অন্যের উপর নির্ভর করতে হয়।

কেননা খুব কম মানুষই স্বর্ণের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করতে পারেন। কিন্তু কিছু কিছু পদ্ধতি রয়েছে যে আমরা অতি সহজে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করতে পারি । আজকের এই ভিডিওটি দেখানো হয়েছে কিভাবে অল্প সময়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করতে পারা যায়। এ পদ্ধতি অবলম্বন করে আমরা অতি সহজে স্বর্ণ পরীক্ষা করতে পারি। এবং স্বর্ণ কেনা বেচার সময় নিজে নিজেই এর বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করে কেনাবেচা করতে পারব। স্বর্ণ সাধারণত নির্ধারণ করা হয় ক্যারেট এর মাধ্যমে।

শতভাগ বিশুদ্ধ সোনার ক্যারেট হয় 24। যাতে অন্য কোন পদার্থ মিশ্রিত থাকে না। তবে সাধারণত 24 ক্যারেটের সোনা দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না। কেননা 24 ক্যারেটের সোনা খুবই নরম হয়ে থাকে। যা দিয়ে গয়না তৈরি করলে খুব সহজেই ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সাধারণত খুব কম পরিমাণে অন্যান্য পদার্থ মিশ্রিত করা হয় সোনার কাঠিন্যতা বৃদ্ধি করার জন্য।গয়না তৈরীর জন্য সাধারণত 22 ক্যারটের স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়। যার মধ্যে 91.66 শতাংশ সোনা বিদ্যমান থাকে।

স্বর্ণের লোহা মেশানোঃ সোনায় যদি লোহা মিশানো থাকে তাহলে চুম্বুক ধরলে অবশ্যই এটাকে টেনে ধরবে। কেননা আমরা সকলে জানি চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে। তাই অনেক সময় সোনার বিশুদ্ধতা পরীক্ষার জন্য চুম্বকের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে সাধারণত সোনার মধ্যে খুব কমই লোহার মিশ্রিত করা হয়। তবে সোনায় মূলত তামা, নিকেল ও জিংক সবচাইতে বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এসিড দিয়ে পরীক্ষাঃ বাজারে কিছু এসিড পাওয়া যায় যা দ্বারা সোনার গুনগতমান পরীক্ষা করা সম্ভব।

ওই এসিড সরাসরি সোনার সংস্পর্শে আসলে কোন রকম বিক্রিয়া হয় না। কিন্তু এর মধ্যে যদি কোন রকম ভেজাল মিশ্রিত থাকে তাহলে অবশ্যই এসিডের মধ্যে বিক্রিয়া ঘটে। সাদা চিনামাটির প্লেটে পরীক্ষাঃ সাদা চিনামাটির প্লেট দ্বারা স্বর্ণ যাচাই করা সম্ভব। সাদা চিনেমাটির প্লেটের উপরে স্বর্ণ দিয়ে দাগ দিলে যদি এর মধ্যে কালো দাগ পড়ে তাহলে বুঝতে হবে এ স্বর্ণ নকল। আর যদি হালকা সোনালী কোন প্রকার দাগ পড়ে তাহলে বুঝতে হবে এটি আসল। কামড়েঃ সোনার গয়নার উপর আস্তে করে কামড় দেয়।

যদি এর মধ্যে দাগ পড়ে তাহলে বুঝতে হবে এটি আসল। আর যদি দাগ না পরে তাহলে বুঝতে হবে এর মধ্যে অধিক পরিমাণে খাদ মেশানো আছে। ঘামঃ ঘামের সংস্পর্শে আসলেও কোনদিন খাঁটি সোনায় ঘামের গন্ধ করবে না। আর যদি সোনাটি নকল হয় তাহলে অবশ্যই এরমধ্যে ঘামের গন্ধ পাওয়া যাবে। উপরোক্ত পদ্ধতি গুলোর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার ঘরের স্বর্ণগুলো পরীক্ষা করে নিতে পারেন যে এগুলো খাঁটি নাকি নকল। এবং স্বর্ণ কেনাবেচার সময়ও এই পদ্ধতিতে স্বর্ণ পরীক্ষা করে নিতে পারেন।

বিস্তারিত ভিডিওতে দেখুনঃ

আরো পড়ুন

ঘুমের মধ্যে বোবায় কেন এবং কাকে ধরে, প্রতিকার

ঘুমের মধ্যে হঠাত শরীর অবশ হয়ে যাওয়া। এরপর কোন নড়াচড়া করা যায় না, এক পর্যায়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *