ফুটবল দুনিয়ায় ডিয়েগো ম্যারাডোনার এই গোলটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং তাকে সারা জীবন মনে রাখবে ইতিহাসের পাতায়।

নিজস্ব প্রতিবেদন: ম্যারাডোনা ছিলেন ফুটবল খেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতিভাবানদের অন্যতম। তিনি ছিলেন ফুটবলের এক আইকন, কিন্তু তিনি নিষ্কলংক ছিলেন না। তার খেলায় যে দক্ষতার প্রদর্শনী, গতি, চমৎকারিত্ব, আর খেলায় কখন কি ঘটতে পারে তা আগে থেকে বুঝে ফেলার ক্ষমতা ছিল – তা ফুটবল ভক্তদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতো। তিনি বন্দুক হাতে সংবাদিকদের ধাওয়া করেন। নিষিদ্ধ ড্রাগ নিয়ে ফুটবল থেকে নির্বাসিত হন। কোকেন নিতে নিতে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে আসেন। ফুটবলের সম্রাট পেলেকে নিয়েও যা-তা বলেন। মেয়ের দিব্যি দিয়ে মিথ্যা বলতে তার বুক কাঁপে না।

ডিয়েগো ম্যারাডোনা মানে অন্তহীন ফুটবল-প্রেমও। যিনি প্রায় একা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিলেন আর্জেন্টিনাকে। হ্যান্ড অফ গড গোলের বিতর্ক সত্ত্বেও ৮৬’র মেক্সিকো বিশ্বকাপে তার ফুটবল-প্রেমে পাগল হয়েছিল অনুসারীরা। ইতালির নাপোলিকে আঁস্তাকুড় থেকে তুলে সিরি-আ চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। নব্বইয়ের বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। জেতাতে পারেননি। রুডি ফোলারের বিতর্কিত ফাউলে পেনাল্টি পেয়ে ১-০ গোলে জিতেছিল পশ্চিম জার্মানি। খেলেছিলেন ’৯৪ বিশ্বকাপেও। কিন্তু সেই টুর্নামেন্টে এসে এলোমেলো হয়ে যান ম্যারাডোনা।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ মাতিয়ে রেখেছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ডিয়েগো ম্যারাডোনা। শেষ পর্যন্ত সে আসরের শিরোপাটাও উঠেছিল ম্যারাডোনারই হাতে। মাঠের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের পাশাপাশি অকল্পনীয় এক বিতর্কের জন্ম দিয়েও স্মরণীয় হয়ে আছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। এই বিশ্বকাপেরই কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠিয়েছিলেন হাত দিয়ে। ডিয়েগো ম্যারাডোনা পরে নিজেই সেই গোলের ব্যাখ্যায় বলেছিলেন, ঈশ্বরই তার হাত দিয়ে গোলটা করিয়ে নিয়েছেন।সেই থেকে গোলটির গায়ে পাকাপাকিভাবে বসে যায় ‘ঈশ্বরের হাতের গোল’ উপাধিটি।

ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আলোচিত দুটো গোল কী কী? অবশ্যই ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, দুটো গোলই হয়েছিল চার মিনিটের ব্যবধানে! ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ‘চিরশত্রু’ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই দুটো গোল করেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে রেফারিকে ফাঁকি দিয়ে হাত দিয়ে বল জালে ঠেলেছিলেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। এই গোলটি হয়তো ইতিহাসে কলঙ্কিত হয়েই থাকত। কিন্তু চার মিনিট পরেই যে অবিশ্বাস্য গোল তিনি করে দেখালেন, তাতে সব মিলিয়ে পুরো গল্পটা হয়ে উঠল ফুটবলীয়-পুরাণের অংশ।

ছয় ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে মাঝমাঠেরও ভেতর থেকে একাই বল টেনে নিয়ে গিয়ে করেন ম্যাচের এবং নিজের দ্বিতীয় গোল। ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ করে আজকের ২২ জুন তারিখকে ম্যারাডোনা অমর করে রাখেন ইতিহাসে! সঙ্গে নিজেকেও। আর্জেন্টিনার হয়ে ৯১টি ম্যাচে খেলে ৩৪টি গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ আসরে প্রতিপক্ষের গোলমুখে আর্জেন্টিনার নেওয়া ১০১ শটের ৫৬ শতাংশে যুক্ত ছিল ম্যারাডোনার নাম। তিনি নিজে নিয়েছিলেন ৩০টি শট। চূড়ান্ত পাস দিয়েছিলেন ২৭ বার।

১৯৮৬ আসরে সবচেয়ে বেশি ৫৩টি ড্রিবল সম্পন্ন করেছিলেন ম্যারাডোনা। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে প্রায় আটবার প্রতিপক্ষকে এড়িয়ে এগিয়ে যেতেন তিনি। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শতাব্দীর সেরা গোল করার সময় একটানে ড্রিবল করেছিলেন ৪টি। আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনা ২৫ নভেম্বর ২০২০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম খবরটি নিশ্চিত করেছে। এর আগে বেশ কয়েক দিন অসুস্থ ছিলেন তিনি।

তিগ্রে-তে নিজ বাসায় মারা যান ম্যারাডোনা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছরসে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আজ এখানেই শেষ করছি। দিয়াগো ম্যারাডোনার সেই বিশ্ব বিখ্যাত গোলটি দেখতে এই ভিডিও টি দেখতে পারেন। ফুটবল জগতের আরও সব খবরা খবর জানতে আমাদের সাথে থাকুন। ইউটিউবে সবচাইতে ভাইরাল ভিডিও ছিল এটি। ডিয়েগো ম্যারাডোনা ভক্তদের হৃদয়ে সবসময় ছিলেন আছেন এবং থাকবেন। ফুটবল জগতে তার নাম সারা জীবন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

বিস্তারিত ভিডিওতে দেখুনঃ

আরো পড়ুন

২৬ বছর ধরে ম্যানহোলেই সুখে সংসার করছেন দম্পতি,দেখু’ন ছবিসহ

নিজস্ব প্রতিবেদন: মানুষের এক অদ্ভুত জীবন। কারো ঠাঁই হয় দশতলায়, কারো আবার গাছতলায়। পৃথিবীতে দুই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *