নাভিতে শোবার আগে দুফোঁটা তেল দিলে কি হয় জানেন?

নিয়মিত নাভিতে তেল ব্যবহারের সুফল সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। প্রাচীনকাল থেকেই নাভিতে তেল ব্যবহার করে রোগমুক্তির বিষয়টি চলে আসছে। নাভি শুধু শরীরের একটি ছোট্ট অংশই নয়, বরং এটি একটি সংযোগস্থল। নাভির সঙ্গে দেহের একাধিক শিরা সংযুক্ত থাকে। যখন নাভিতে তেল ব্যবহার করা হয় তখন তা বিভিন্ন শিরা ও উপশিরায় পুষ্টির যোগান দেয়। এতে করে আপনি বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

শরীরকে ইনফেকশন মুক্ত রাখার পাশাপাশি নানা রোগব্যাধি থেকে বাঁচতে সাহায্য করে এই ছোট্ট অভ্যাসটি। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক, কোনো তেল নাভিতে ব্যবহার করবেন আর কী উপকার পাবেন- > দু’ফোঁটা টি ট্রি অয়েল নাভিতে প্রতিদিন ব্যবহারেই শরীর যে কোনো সংক্রমণ থেকে বাঁচবে। এতে আছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান। টি ট্রি ওয়েল না পেলে ব্যবহার করতে পারেন সরিষার তেল।

> প্রতি মাসেই নারীরা মাসিকের ব্যথায় কাবু হন। এই পেট ব্যথা কমাতে কিনে রাখুন পিপারমেন্ট বা আদার এসেন্সিয়াল অয়েল। নারকেল তেল বা অলিভ তেলের সঙ্গে এই তেল মিশিয়ে লাগান। কিছুক্ষণ পর কমে যাবে। একটু ম্যাসাজ করুন, ব্যথা কমে যাবে।

> ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করতে কে না চায়? তাহলে নাভিতে দিন বাদাম তেল। বাদাম তেল এমনিতেই স্কিন উজ্জ্বল করে। নাভিতে বাদাম তেল ম্যাসাজ করলে কয়েকদিনের মধ্যেই তফাত বুঝতে পারবেন। তবে হয়ে উঠবে উজ্জ্বল। সময় বেশীরভাগ মেয়েরই পেট ব্যথা হয়।

> ব্রণের একমাত্র সমাধান হিসেবে এই কাজটি করতে পারেন। নাভিতে ম্যাসাজ করুন কয়েক ফোঁটা নিম তেল। ব্যাস একমাসের মধ্যেই ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। কারণ এটা একেবারে সমস্যার গোড়া থেকে সমস্যা নির্মূল করে। তবে মুখে কখনই সরাসরি দেবেন না, নিম তেল নাভিতে ব্যবহার করুন।

> ফুলে যাওয়া বা বমি বমি ভাব হলে নাভিতে সরিষার তেল এবং আদার তেল মিশিয়ে ব্যবহার করুন। হজমজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে মুহূর্তেই। > নিয়মিত নাভিতে সরিষার তেল ব্যবহারেই চোখের জ্যোতি বাড়ে। সেই সঙ্গে অন্ধত্বের ঝুঁকিও কমে। > জয়েন্টের ব্যথায় অনেকেই ভুগে থাকেন। বিশেষ করে বয়স বাড়লে এমন ব্যথাও বেড়ে যায়। এজন্য নাভিতে নিয়মিত ক্যাস্টর অয়েল এবং রোজমেরি অয়েলের মিশ্রণ করে ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদি এই ব্যথা থেকে মিরবে মুক্তি।

অনেকেই নাভির যত্ন নিতে ভুলে যান। যার ফলে দীর্ঘদিন ধরেই ময়লা জমতে থাকে নাভিতে। এর থেকে ইনফেকশনও হয়ে থাকে। তাই যদি নিয়মিত নাভিতে দু’এক ফোঁটা তেল ব্যবহার করা যায় তাহলে নাভিও থাকবে পরিষ্কার। সেইসঙ্গে রোগমুক্তিও মিলবে।

অসহ্য গাঁটে ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, ঠাণ্ডা, ফ্লু, সর্দি ও ত্বকের সমস্যা দেখা দিলে দু’তিন ফোটা তেল নাভিতে ঢেলে দেখুন কী হয়! একদম মুহূর্তের মধ্যেই আপনার শরীর থেকে একে একে সব সমস্যা হাওয়া হয়ে যাবে।কী বিশ্বাস হচ্ছে না তো! তবে একাধিক গবেষণায় এমনটাই প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মাত্র দু’তিন ফোটা তেল নাভিতে ঢেলে মালিশ করে এসব সমস্যা সারিয়েছেন।

আপনি জেনে অবাক হবেন, সনাতন চিকিৎসা পদ্ধতি মানুষ এখনও অনুসরণ করে এবং বিশ্বাসও করে। ওইসব সনাতন চিকিৎসায় দারুণ ফলও পাওয়া যায়।

নির্দিষ্ট কয়েকটি তেল দু’তিন ফোটা নাভিতে ব্যবহার করলেই যাদুর মতো অনেক রোগ কমে যায় এবং এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।

তাহলে দেরি কেন? আসুন জেনে নেয়া যাক কোন তেল নাভিতে ব্যাবহারে আপনি কি কি রোগ সারাতে পারবেন; ফাটা ঠোঁট ও গিরায় ব্যথা: আপনার নাভিতে দু’তিন ফোটা সরিষার তেল দিন। এটা শুনে আপনার চোখ কপালে উঠতে পারে, মনে হতে পারে নাভির সঙ্গে ঠোঁট ও গিড়ার সম্পর্ক কি? তবে বিশ্বাস করুন কয়েক ফোটা সরিষার তেল নাভিতে দিয়ে মালিশ করলেই আপনার ঠোঁট ফাটা ও গিরার ব্যথা কমে যাবে।

গোপন দুর্বলতায়: নাভিতে ৪-৫ ফোটা নারিকেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে মালিশ করুন। এটা সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করলে আপনার গোপন দুর্বলতা কমে যেতে শুরু করবে এবং এতে উর্বরতাও বাড়বে।

হাঁটু ব্যথা: রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক ফোটা ক্যাস্টর তেল মালিশ করুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন আপনার ব্যথা কমে গেছে। ব্রণ: ব্রণ হলে নাভিতে কয়েক ফোটা নিম তেল দিয়ে আলতো হাতে মালিশ করুন। এই তেল কয়েক দিন ব্যবহারে আপনার ব্রণ কমে যাবে। তবে এ তেল আবার মুখে ব্যবহার করবেন না যেন, তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

উজ্বল ত্বক: তিন-চার ফোটা বাদাম তেল আপনার নাভিতে দিয়ে মালিশ করুন। এভাবে কয়েক দিন ব্যবহারে দেখবেন আপনার ত্বক কেমন উজ্জ্বল হয়ে গেছে। এছাড়া কয়েক ফোটা ঘি নাভিতে মালিশ করলে আপনার ত্বক কোমল হয়ে যাবে। আপনি হয়ে উঠবেন আরও মোহনীয়।

ফ্লু বা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা: একটি তুলার বল এলকোহলে ডুবিয়ে নাভির ওপর রাখুন। দেখবেন আপনার ঠাণ্ডা জনিত সমস্যা কতো তাড়াতাড়ি কমে। ঋতুস্রাবে ব্যথা: ঋতুস্রাবে ব্যথা হলে একটি তুলার বল ব্র্যান্ডিতে ডুবিয়ে নিন, তারপর নাভির ওপর রাখুন। এভাবে দিনে কয়েকবার ব্যবহারে ব্যথা কমে যাবে।

নাভিতে দু’ফোটা তেল ব্যবহারের কার্যকরীতা সম্পর্কে চলুন আরো ১০ টি কারন যেনে নেই,

১. পিরিয়ডে পেট ব্যথা? তেল দিন নাভিতে-

পিরিয়ডের সময় বেশীরভাগ মেয়েরই পেট ব্যথা হয়। এই পেট ব্যথা কমাতে কিনে রাখুন পিপারমেন্ট বা আদার এসেন্সিয়াল অয়েল। নারকেল তেল বা অলিভ তেলের সাথে মিশিয়ে লাগান। কিছুক্ষণ পর কমে যাবে। একটু ম্যাসাজ করুন, ব্যথা কমে যাবে। শুধু ব্যথা কমাবে না। পিরিয়ডের যাবতীয় সমস্যা ঠিক করবে।

২. শরীর পরিষ্কার রাখে-

নাভি পরিষ্কার থাকলে গোটা শরীর পরিষ্কার থাকে। তাই শরীরকে পরিষ্কার রাখতে নাভিতে তেল মাখা কিন্তু খুব জরুরী। যেটা আমরা সকলেই এড়িয়ে যাই। নাভি নোংরা থাকে। কিন্তু নাভিকে পরিষ্কার রখলেই গোটা শরীর পরিষ্কার থাকে। কিন্তু নাভি ধীরে ধীরে পরিষ্কার করবেন। কোমল জায়গা, জোরে জোরে পরিষ্কার করলে, লেগে যেতে পারে।

৩. শরীরকে ইনফেকশন মুক্ত রাখতে-

শরীরকে ইনফেকশন মুক্ত রাখতে রোজ নাভিতে তেল দিন। শরীরে ইনফেকশন কম হয়। আর শরীরে এই ধরণের ইনফেকশন খুব বেশী হতে থাকলে, জাস্ট নাভিতে মাখুন দু ফোঁটা টি ট্রি অয়েল। যেকোনো রকম ইনফেকশন থেকে আপনি থাকবেন মুক্ত। এতে আছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান। টি ট্রি ওয়েল না পেলে ব্যবহার করতে পারেন সরষের তেল।

৪. স্কিনকে ময়েশ্চারাইজড রাখে-

শীতে খুব শুকনো স্কিন? তাহলে শরীরে তেল মাখার সাথে সাথে, নাভিতে জাস্ট একটু তেল দিন। দেখবেন স্কিন কেমন নরম কোমল থাকবে। তখন আর ভুরি ভুরি ময়েশ্চারাইজার লাগানোর দরকার পড়বে না। এমনিই স্কিন ময়েশ্চারাইজড থাকবে। রোজ স্নানের আগে লাগিয়ে নিন একটু অলিভ অয়েল। স্নানের পর দেখবেন স্কিন কেমন নরম স্মুদ লাগবে।

৫. উজ্জ্বল ত্বকের জন্য-

ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করতে চান? তাহলে নাভিতে দিন বাদাম তেল। বাদাম তেল এমনিতেই স্কিন উজ্জ্বল করে। নাভিতে বাদাম তেল ম্যাসাজ করলে, বেশী দিন না, কয়েকদিনের মধ্যেই তফাৎ বুঝতে পারবেন। স্কিন হয়ে উঠবে উজ্জ্বল।

৬. ব্রণর একমাত্র সমাধান-

মুখে ব্রণ, র‍্যাশের সমস্যায় খুব ভুগছেন? তাহলে কাজে লাগান নিম তেলকে। নাভিতে ম্যাসাজ করুন কয়েক ফোঁটা নিম তেল। ব্যাস, একমাসের মধ্যেই ব্রণর সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। কারণ এটা একেবারে সমস্যার গোড়া থেকে সমস্যা নির্মূল করে। শুধু ব্রণ নয়, হোয়াইট হেডস থাকলে সেটাও কমে যাবে। এটা স্কিনকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে, তার ফলে এই জাতীয় যেকোনো সমস্যাকে সহজেই সারিয়ে তোলে। কিন্তু মুখে কখনই সরাসরি দেবেন না, নিমতেল নাভিতে দিন।

৭. ন্যাভাল চক্রকে ঠিক রাখে-

আপনি কি ক্রিয়েটিভ কাজের সাথে যুক্ত? তাহলে নিজের এই ক্রিয়েটিভ ক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে নাভিতে নিয়মিত তেল ম্যাসাজ করুন। সপ্তাহে একদিন যেকোনো এসেন্সিয়াল অয়েল নারকেল তেল বা অলিভ তেলের সাথে মিশিয়ে লাগান। এটা আপনার ক্রিয়েটিভিটি, এনার্জি, চিন্তাশক্তি, আপনার লক্ষ্য পূরণ করার ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দেবে। কারণ এটাই ক্রিয়েটিভিটি, এনার্জি, ইম্যাজিনেশনের ঘর। তাই একে ঠিক রাখলে নিজের মনকে সম্পূর্ণ ঠিক রাখতে পারবেন।

৮. গর্ভধারণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে উপকারী-

নিয়মিত কিছু এসেনশিয়াল অয়েল নাভিতে ব্যবহারের ফলে শরীর অনেক রিল্যাক্স থাকে। ছেলেদের ক্ষেত্রে স্পার্ম ভালো থাকে, মেয়েদের মাসিকের সমস্যা কমিয়ে আনে এবং শরীরে হরমোনের প্রবাহ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

৯. গ্যাসের ব্যথা, বদহজম? সমাধান নাভিতে তেল-

গ্যাসের ব্যথা, বদহজম বা ফুড পয়জনের জন্য যদি পেট ব্যথা হয়? তাহলে পিপারমেন্ট বা আদার এসেন্সিয়াল অয়েল সরষের তেলের সাথে মিশিয়ে নাভিতে লাগান। পেট ব্যথা কমে যাবে। সাথে এই ধরণের সমস্যা কাটিয়ে উঠতেও সাহায্য করবে।

১০. গোপন দুর্বলতায়-

নাভিতে ৪-৫ ফোটা নারিকেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে মালিশ করুন। এটা সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করলে আপনার গোপন দুর্বলতা কমে যেতে শুরু করবে এবং এতে উর্বরতাও বাড়বে।

আরো পড়ুন

বাজার থেকে এনে খেয়ে ফেলছেন টুকটুকে লাল লিচু, হতে পারে এই মারণ রোগ!

কপার, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়ামের মতন ক্ষতিকর ধাতু মিশে ওই রাসয়নিক তৈরি হয়। যা শরীরে প্রবেশ করে ...