নিজের সন্তানের সাথে এই আচরণ গুলো করবেন না কখনো, বিস্তারিত পড়ুন!

নিজস্ব প্রতিবেদন: আমারা নিজেদের সন্তানের ভালোর জন্য বকা-ঝকা করা করে থাকি; আপনি হয়ত ভাবছেন একটু বকা দিলে ক্ষতি নেই। আসলে বিষয়াটি তা নয়; বকা-ঝকা করা  আপনার সন্তানের মনে ও তার ব্যক্তিত্বে অনেক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শুধুমাত্র নেতিবাচক প্রভাবই নয়; সর্ম্পকে এতে ফাটল ধরে!

আসুন জেনে নিই, এমন কিছু ভুল কথা যা সন্তানকে কখনোই বলা উচিৎ নয় আমাদের: আমাকে একা থাকতে দাও: প্রতিটি মানুষের নিজস্ব কিছু সময় কাটানোর জন্য একান্ত প্রয়োজন হয়। জীবনে এমন কোনো এক সময় আসে, যখন সবাই একা একা থাকতে চায় খানিকটা সময়। কিন্তু তাই বলে সন্তানকে সরাসরি বলা যাবে, “আমাকে একা থাকতে দাও”। এ কথা তাদের মধ্যে নিরপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে। সে ভাবে আপনি হয়তো আর তাকে ভালোবাসেন না।

তোমার ভাই বা দিদির মত হতে পারো না: আপনার সন্তানকে তার ভাইবোন বা কাজিনের সঙ্গে তুলনা করতে যাবেন না। প্রতিটি মানুষই স্বতন্ত্র। আপনার এ ধরণের তুলনা তার ব্যক্তিত্বে খুবই খারাপ প্রভাব ফেলে এবং নিজের ভেতর হীনমন্যতা সৃষ্টি হয়। যা সন্তানের জন্য মারাত্মক মানসিক অশাস্তি সৃষ্টি করে।

কোনো কাজ ঠিকমত করতে পারো না: একটা ছোট বাচ্চার বুঝার ক্ষমতা সীমিত থাকে। তবুও সে সব কাজ নিখুঁত করার চেষ্টা করে। কিন্তু সবসময় তা সঠিক নাও হতে পারে। তার মানে এই নয় যে, তার দ্বারা কোনো কাজ হবে না। থাম! না হলে তোমাকে মারব: এ কথাটি প্রায় সব বাবা মায়েরা তার সন্তানদের শুনিয়ে থাকেন। আপনি সন্তানকে মারেন বা না মারেন এ কথাটি তার মনে বিদ্রোহী মনোভাব সৃষ্টি করে এবং এটি সন্তানকে জেদি ও অবাধ্য করে তোলে।

তুমি না জন্মালে ভালো হতো: রাগ করে হোক বা অন্য কোনো কারণেই হোক সন্তানকে এই ধরণের কথা বলবেন না। এই একটি কথাই আপনার প্রতি সন্তানের ঘৃণা তৈরির জন্য যথেষ্ট। তুমি খুব মোটা বা শুকনো: কোনো শিশুকে তার স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা উচিত নয়। কারণ এটি তার মধ্যে নিজের প্রতি ঘৃণা তৈরি করে। সুতারাং, তার শরীরের গঠন নিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

তাড়াতাড়ি কর: আপনার সন্তানটি হয়তো সকালে নাস্তা খেতে খুব দেরি করে বা তার কেডস পরতে দেরি করে, যার ফলে তার স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়। এ জন্য আপনি যদি তাকে শাস্তি দেন বা তাড়াতাড়ি কর কথাটি বারবার বলেন। বেবি মাইন্ডস বইটির সহ লেখিকা (পি.এইচ.ডি) লিন্ডা অ্যাক্রিডোলো বলেন, “এতে সে খুব বাড়তি চাপ অনুভব করবে”। তাই আপনি তাকে আস্তে করে বলুন, “চলো তাড়াতাড়ি করি।” তখন সে বুঝতে পারবে তার দেরি হয়ে যাচ্ছে।

নরম সুরে কথা বলুন: আপনি অভিভাবক হিসেবে তার সাথে নরম সুরে কথা বলুন ধমক দিয়ে নয়। এতে করে তার কোমল মনে কোন ক্ষত সৃষ্টি হবেনা । প্রতিটি মা-বাবাই তার বাচ্চাদের ভলোবাসেন এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অনেক সময় আমরা হুটহাট এমন সব কথা বলি যা, তাদের মানসিক বৃদ্ধি বাঁধাগ্রস্থ হয় ও তার উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করে কথা বলুন সন্তানের সাথে।

আরো পড়ুন: আপসোস করতে না চাইলে বয়স ৩০ হওয়ার আগেই এই ৭টি কাজ করুন

আপসোস করতে না চাইলে বয়স ৩০ হওয়ার আগেই এই ৭টি কাজ করুন – আশেপাশে তাকিয়ে দেখুন, অনেক শেষ বয়সের মানুষের কাছে শুনতে পাবেন নানা আফসোসের কথা। অনেকেই সময় থাকতে অনেক কিছু না করে শেষ বয়সে এসে ফেলে আসা সময়ে কথা মনে করে

আফসোস করতে থাকেন। মনে মনে ভাবতে থাকেন ‘তখন সুযোগ হাতছাড়া না করলে জীবনটাই অন্যরকম হতো’। মানুষ নাকি সবকিছু ঠেকে শিখে থাকে, কিন্তু যাদের বুদ্ধি রয়েছে তারা কিন্তু দেখেও শিখে থাকেন অনেক কিছুই। এখন আপনিই বিবেচনা করুন, চোখের সামনে

অনেককে আফসোস করতে দেখে শিখে নেবেন জীবনের সত্যটি? যদি তাই হয়, তাহলে জীবনে আফসোস রাখতে না চাইলে বয়স ৩০ পার হওয়ার আগেই করুন কিছু কাজ। চলুন তবে জেনে নেওয় যাক সেই ৭টি কাজ –

১) ৩০ বছর কিন্তু অনেকটা সময়, নিজের লক্ষ্য যদি স্থির না করে সে পথে হাঁটতে না পারেন এই বয়সে তাহলে কিন্তু শেষ বয়সে আপনার জন্যও আফসোস করাই একমাত্র পথ হিসেবে খোলা থাকবে। নিজের জীবনের কথা ভাবুন, লক্ষ্য ঠিক করুন। ২) অযথা অর্থ ব্যয় না করে সঞ্চয়ের চিন্তা করুন। যদি ভাবেন পুরো জীবন তো পড়েই রয়েছে তাহলেই ভুল করবেন। এখনই সময়, নিজের বয়সকালের কথা ভেবে হলেও সঞ্চয়ের কথা মাথায় রাখুন।

৩) একটিবারের জন্য হলেও নিজের স্বাস্থ্যের কথা ভাবুন। যৌবন সময়ে অনেকেই শক্তি থাকে বলে খেটে চলেন অমানুষের মতো, যার ফলে শেষ বয়সে নানা অসুস্থতা বাসা বাঁধে দেহে। এই কাজটি করবেন না। নিয়মিত চেকআপের রুটিন করে ফেলুন বয়স ৩০ পার হওয়ার আগেই। ৪) আপনার জন্য কে ভালো এবং কে ক্ষতিকর তা বুঝে নেয়ার বয়স কিন্তু প্রায় পার হয়েই যাচ্ছে। এখনও যদি না বুঝে খারাপ সঙ্গের সাথে থাকেন তাহলে আপনারই ক্ষতি। আপনার জন্য ক্ষতিকর মানুষগুলো ঠেকে দূরে যাওয়ার সময় এটাই।

৫) নিজের জীবনে পাশাপাশি চলার মতো একজন সঙ্গী খুঁজে নিন বয়স ৩০ পার হয়ে যাওয়ার আগেই। কারণ মানুষের আবেগ অনুভূতি প্রকাশেরও নির্দিষ্ট বয়স রয়েছে। ৬) নিজের শখটাকে মেরে ফেলবেন না। বয়স ৩০ হওয়ার আগেই নিজের শখ পূরণের যথাসাধ্য চেষ্টা করে যান তা সে যতো কঠিনই হোক না কেন। যদি তা দেশের বাইরে ঘোরা হয় তাও, নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাসের জন্য হলেও ৩০ এর আগেই করে ফেলুন এই কাজটি।

৭) বয়স ৩০ পার হওয়ার আগেই নিজের একটি পরিচয় গড়ে তুলুন সকলের সামনে। আপনাকে যেনো কাউকে চেনাতে না হয়, আপনার নাম অন্তত আপনার আশেপাশের মানুষেরা শুনলেই চিনতে পারেন আপনাকে। এই সুখটিও হাসিল করে নিন বয়স ৩০ পার হওয়ার আগেই।

আরো পড়ুন

পাত্র খুঁজে পাচ্ছেন না যে গ্রামের সুন্দরী নারীরা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিও ভিন্ন। একেক দেশের রীতি অন্য দেশের কাছে অদ্ভুত বা উদ্ভট বলে …