হার্ট অ্যাটাকের এক মাস আগে থেকেই শরীর যে ৭টি সিগনাল দেয়!

নিজস্ব প্রতিবেদন: হার্ট অ্যাটাক একটি ভীতিকর বিষয়। যার একবার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায় তাকে প্রায় সারাজীবনই বেশ সতর্কভাবে জীবনযাপন করতে হয়। হার্ট অ্যাটাক এক নীরব ঘাতক। যে কেউ যেকোনো সময় এর শিকার হতে পারেন, শরীরচর্চা না করা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণ ও জীবনযাপনে অনিয়ম হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায় এর লক্ষণগুলো জানা থাকলে একটি জীবন হয়তো বাঁচিয়ে দেওয়া সম্ভব। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে হার্ট অ্যাটাকের কিছু লক্ষণের কথা তুলে ধরেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

হার্ট অ্যাটাক হয় সাধারণত হৃদপিণ্ডে পর্যাপ্ত রক্ত চলাচল কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে। অথবা রক্ত চলাচলের শিরা-উপশিরাগুলোতে কোনো ব্লক হলে হার্ট অ্যাটাক হয়। তবে আগেভাগেই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো ধরতে পারলে হয়তো অকাল মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের এক মাস আগে থেকেই দেহ কিছু সতর্কতা সংকেত দিতে শুরু করে। এখানে এমন ৭টি লক্ষণ বাতলে দেওয়া হলো যেগুলো দেখা গেলে বুঝবেন আপনি শিগগিরই হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হতে যাচ্ছেন। আর লক্ষণগুলো দেখা গেলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আসুন জেনে নেওয়া যাক-

১. অস্বাভাবিক রকমের শারীরিক দুর্বলতা: রক্তপ্রবাহ কমে গেলে এবং রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে এমনটা হয়। রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোতে চর্বি জমে বাধা সৃষ্টি করলে এবং মাংসপেশী দুর্বল হয়ে পড়লে হৃদরোগের প্রধানতম এই লক্ষণটি দেখা দেয়।

২. ঝিমুনি: দেহে রক্তের প্রবাহ কমে গেলে ঝিমুনিও দেখা দেয়। মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ কমে গেলে ঝিমুনির সৃষ্টি হয়।

৩. ঠাণ্ডা ঘাম: রক্তপ্রবাহ কমে গেলে দেহে ঘাম ঝরলে স্যাঁতসেতে ও ঠাণ্ডা ভাব অনুভূত হবে।

৪. বুক ব্যথা: বুক, বাহু, পিঠ এবং কাঁধে ব্যাথা অনুভূত হলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বুকে ব্যথা এবং সংকোচন হৃৎপিণ্ডের অসুস্থতার একটি বড় লক্ষণ।

৫. ঠাণ্ডা বা ফ্লু: হার্ট অ্যাটাকের শিকার অনেককেই এক মাস আগে থেকে ঠাণ্ডা-সর্দি বা ফ্লু-তে আক্রান্ত হতে দেখা গেছে।

৬. শ্বাসকষ্ট: ফুসফুসে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন এবং রক্ত সরবরাহ না হলে এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। হার্টের সমস্যা থাকলে ফুসফুসে রক্ত চলাচল কমে যায়। আর শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস ছোট হয়ে আসার মতো সমস্যা দেখা যায়।

৭. বমি, বদহজম, তলপেটে ব্যথা: বমিভাব, বদহজম, বুক হৃৎপিণ্ডে জ্বালাপোড়া করা বা তলপেটে ব্যথাও অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে। সুতরাং এই লক্ষণগুলো দেখা গেলেও হৃদরোগের ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

এবার জেনে নেওয়া যাক হার্ট অ্যা’টাক থেকে বাঁচার উপায়:

শুধু বেশি বয়সীদের হার্টের স’মস্যা হয় তা কিন্তু নয়। এখন কম বয়সীদের মধ্যেও এ রো’গ হচ্ছে। মূলত অনিয়মিত জীবনযাপনকেই চিকি’ৎসকরা এর কারণ হিসেবে দায়ী করছেন, তবে প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন আনলেই হার্ট অনেকটা সু’স্থ রাখা সম্ভব। জীবনযাত্রায় কী’ কী’ পরিবর্তন আনলে হার্ট সু’স্থ রাখা সম্ভব সময় সংবাদের পাঠকদের জন্য তা নিচে তুলে ধ’রা হলো।

পর্যাপ্ত ঘুম দরকার: দিনে ৭ ঘণ্টা ঘুম সু’স্থ থাকার জন্য খুব জ’রুরি। মা’নসিক চা’প থেকে দূ’রে থাকাও খুব দরকার। নিয়মিত শ’রীরচর্চার মধ্যে থাকলে রাতের ঘুম ভালো হয়। র’ক্তকণিকা সু’স্থ থাকে। রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখা দরকার: শ’রীরে প্রয়োজনের অ’তিরি’ক্ত শর্করা থাকলে তা কখনও ভালো নয়। ডায়াবেটিসের ঝুঁ’কি কমলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা এমনিই কমে যায়।

নিয়মিত শ’রীরচর্চা ক’রতে হবে: ওজন নি’য়ন্ত্রণে রাখু’ন। নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করলে হার্ট সু’স্থ থাকে। নিয়মিত আধা ঘণ্টা হাঁটতে হবে। সপ্তাহে অন্ত’ত ৫ দিন শ’রীরচর্চা ক’রতে হবে।

ম’দপান এবং ধূমপান থেকে দূ’রে থাকুন: ধূ’মপান ও ম’দপান একেবারে ছে’ড়ে দিতে হবে। স্বা’স্থ্যকর খাবার খেতে হবে: আপনার প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, আর ফ্যাটের পরিমাণে যেন সমতা থাকে।
সতেজ ফল, শাকসবজি খান। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে এমন মাছ রাখু’ন প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখু’ন। লবণ, মিষ্টি, রেড মিট খাওয়া কমান।

নিচের শিক্ষামূলক গল্পটি পড়ুন: হাসপাতালে ২জন রোগী পাশাপাশি বিছানায় থাকেন ২জনেই মৃত্যু শয্যায় একজন রোগী থাকতো জানালার কাছে, বিছানা থেকে উঠে বসার মতো শক্তি ছিল না কারোরই  তবুও জানালার কাছে থাকা রোগীটি নার্স কে ডেকে প্রতিদিন বিকেলে এক ঘণ্টার জন্য জানালার পাশে উঠে বসতেন।অপলক চেয়ে থাকেন তিনি বাইরের দিকে…

১ ঘণ্টা পরে পাশের বিছানায় শুয়ে থাকা রোগীর কাছে বাইরে কি কি দেখল তাঁর বর্ণনা করতেন। তিনি প্রতিদিন বলতেন–“বাইরে অনেক পাখি উড়ে বেড়াচ্ছে। ছোট ছোট শিশুরা মাঠে খেলা করছে। বাচ্চারা কাগজের নৌকা বানিয়ে ভাসিয়ে দি চ্ছে পানিতে…

পাশের বিছানায় শুয়ে শুয়ে রোগীটি এইসব কল্পনা করতো। আর মনের আকাশে উড়ে বেড়াতো মেঘেদের সাথে। অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করতো এসব বর্ণনা শুনে। হঠাৎ একদিন জানালার পাশে থাকা রোগীটি মারা গেলেন। পাশের বিছানার রোগীটি তখন নার্স কে অনুরুধ করলো তাকে যেন জানালার পাশের বেড এ থাকতে দেওয়া হয়।

বিকেল হলো সে আজ প্রকৃতি নিজ চোখে দেখবে। অনেক আশা নিয়ে কনুই এ ভর করে চোখ রাখলেন জানালায়… কিন্তু হায়!!  সেখানে তো সাদা দেয়াল ছাড়া আর কিছুই নেই!!!! নার্স কে ডাকলেন,জিজ্ঞেস করলেন–“এখানে তো দেয়াল ছাড়া কিছুই নেই! তাহলে প্রতিদিন সে আমাকে কিভাবে সুন্দর ফুল,প্রকৃতির,পাখির বর্ণনা করতো?!!”

নার্স হাসিমুখে উত্তর দিলো–“আসলে উনি ছিলেন অন্ধ। আপনাকে বেঁচে থাকার উৎসাহ দিতেই এসব গল্প শুনাতেন..উপরে দুইজনের গল্পের মানে হলো নিজের দুঃখ কারো সাথে শেয়ার করুন, তাহলে দুঃখটা অর্ধেক হয়ে যাবে। আর নিজের সুখটা কারো সাথে শেয়ার করে দেখুন, দেখবেন তা দ্বিগুন হয়ে যাবে!

আরো পড়ুন

বাজার থেকে এনে খেয়ে ফেলছেন টুকটুকে লাল লিচু, হতে পারে এই মারণ রোগ!

কপার, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়ামের মতন ক্ষতিকর ধাতু মিশে ওই রাসয়নিক তৈরি হয়। যা শরীরে প্রবেশ করে ...